নির্দেশিকা

সঞ্চয়পত্র ফরম ডাউনলোড নির্দেশিকা (২০২৬)

বাংলাদেশ সঞ্চয় গবেষণা দলজুন ০১, ২০২৬15 min
✍️ বাংলাদেশ সঞ্চয় গবেষণা দল|📅 জুন ০১, ২০২৬|🔄 সর্বশেষ পর্যালোচনা: জুন ২০২৬

সঞ্চয়পত্র ফরম ডাউনলোড এবং আবেদন ফরম পূরণ নির্দেশিকা

বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra) বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ ও নিশ্চিত মুনাফা পাওয়ার জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে, প্রথমবার সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে সঠিক আবেদন ফরম সংগ্রহ করা এবং তা নির্ভুলভাবে পূরণ করা বেশ জটিল মনে হতে পারে।

এই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকায় আমরা বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র স্কিমের আবেদন ফরমের সরাসরি ডাউনলোড লিংক, ফরম পূরণের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।


১. অফিসিয়াল সঞ্চয়পত্র ফরম পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড লিংক

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের (NSD) অধীনে বিভিন্ন স্কিমের জন্য আলাদা আলাদা ফরম রয়েছে। নিচে অফিসিয়াল পিডিএফ ফরমগুলোর সরাসরি ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো:


২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা (চেকলিস্ট)

সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদন করার সময় আবেদনপত্রের সাথে নিম্নোক্ত নথিপত্রগুলো অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে:

১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর সচল এনআইডি কার্ডের স্পষ্ট ফটোকপি। ২. আবেদনকারীর রঙিন ছবি: আবেদনকারীর ২ কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (ছবির পেছনে আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে)। ৩. নমিনির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • নমিনির ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (আবেদনকারী কর্তৃক সত্যায়িত)।
  • নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম সনদের (যদি নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়) ফটোকপি। ৪. ই-টিআইএন (e-TIN) সার্টিফিকেট: আবেদনকারীর ১২ ডিজিটের ই-টিন সার্টিফিকেটের ফটোকপি। সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক। ৫. ব্যাংক হিসাবের প্রমাণপত্র (MICR চেক):
  • আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবের একটি বাতিলকৃত MICR চেক পাতার ফটোকপি (যাতে ব্যাংকের রাউটিং নম্বর ও একাউন্ট নম্বর নির্ভুলভাবে বোঝা যায়)। এর মাধ্যমে আপনার লভ্যাংশ সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে।

৩. ধাপে ধাপে সঞ্চয়পত্র আবেদন ফরম পূরণের নিয়মাবলী

আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ না করলে তা বাতিল হতে পারে অথবা মুনাফা বিতরণে বিলম্ব হতে পারে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে ফরম পূরণ করুন:

ধাপ ১: অফিসের বিবরণ

ফরমের একদম শুরুতে যে ব্যাংক বা অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র কিনছেন তার নাম ও শাখার বিবরণ লিখুন (যেমন: সোনালী ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস শাখা, ঢাকা)।

ধাপ ২: আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য

  • আপনার নাম ইংরেজি ক্যাপিটাল অক্ষরে এবং বাংলায় আপনার এনআইডি কার্ডের হুবহু নাম অনুযায়ী লিখুন।
  • জন্ম তারিখ, পেশা, জাতীয়তা, এনআইডি নম্বর এবং ই-টিন নম্বরটি নির্দিষ্ট বক্সে লিখুন।
  • বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা পরিষ্কারভাবে লিখুন।

ধাপ ৩: বিনিয়োগের পরিমাণ ও অর্থের উৎস

  • আপনি মোট কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে চান তা সংখ্যায় এবং কথায় লিখুন (যেমন: ৫,০০,০০০ টাকা / পাঁচ লক্ষ টাকা মাত্র)।
  • আপনার বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎস কী (যেমন: বেতন, ব্যবসা, পেনশনের টাকা বা সঞ্চয়) তা উল্লেখ করুন।

ধাপ ৪: নমিনি সংক্রান্ত তথ্য

  • নমিনির নাম, সম্পর্ক, বয়স এবং তার প্রাপ্ত অংশের হার (যেমন: ১০০% অথবা একাধিক নমিনি থাকলে ভাগের পরিমাণ) লিখুন।
  • নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার অভিভাবকের বিবরণ ও স্বাক্ষর প্রদান করুন।

ধাপ ৫: স্বাক্ষর ও তারিখ

এনআইডি কার্ডের সাথে মিল রেখে আবেদনকারী স্বাক্ষর বক্সে আপনার দস্তখত করুন এবং চলতি তারিখ লিখুন।


৪. আবেদনপত্র কোথায় জমা দেবেন?

আবেদনপত্র সম্পূর্ণ পূরণ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নিচের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে পারবেন:

  • বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ: যেকোনো সাধারণ তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক (শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামি ব্যাংক ব্যতীত)।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট ক্যাশ কাউন্টার।
  • জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে জেলা ও বিভাগীয় ব্যুরো অফিস।
  • ডাকঘর: আপনার এলাকার প্রধান ডাকঘর বা সঞ্চয় সেবা প্রদানকারী ডাকঘর।

আবেদন জমা দেওয়ার পর তা ডিজিটালি সঞ্চয়পত্র ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে নিবন্ধিত হবে এবং প্রতি মাসে বা ৩ মাস পর পর আপনার ব্যাংক একাউন্টে লভ্যাংশের টাকা সরাসরি জমা হবে।

🇧🇩

বাংলাদেশ সঞ্চয় গবেষণা দল

বাংলাদেশ সঞ্চয় গবেষণা দল মূলত ব্যক্তিগত অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং আর্থিক নিয়মাবলী বিশ্লেষকদের একটি নিবেদিত দল। আমরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে বাংলাদেশের প্রতিটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার, সরকারি পরিপত্র এবং আয়কর নিয়মাবলী বিশ্লেষণ করে শতভাগ নির্ভুল তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করি।

সব গাইড দেখুন
শেয়ার করুন: